চাকরির বাজারে যে ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন সবচেয়ে বেশি

বর্তমানে চাকুরির বাজারে সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন, গুনগত মান, চাহিদা ও সুযোগ একজন ছাত্রের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে থাকে। আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা ও তাদের বিশাল চাকুরিক্ষেত্র আছে। যেখানে একজন ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন অভাবনীয়, যা সম্পর্কে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অবগত নয়। তাই সঠিক পেশাটি বেছে নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিভ্রান্তিকর হতে দাঁড়ায়।

নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ে ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন অনেক। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ারিং এর বেতন তুলনামূলক বেশি। আর অবশ্যই তা চাহিদা অনুযায়ী তারতম্য দেখা যায়। পড়াশুনা শেষে যদি চাকুরি করা মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তবে এই লেখাটি আপনার জন্য। চাকুরির বাজার নিরূপণে আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্যারিয়ার গড়ার সেরা পরামর্শ পেতে যাচ্ছেন। আশা করি এই পোস্টটি আপনার পছন্দের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। তালিকাটি দেখুন, আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ক্যারিয়ারটি নির্বাচন করুন।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং

ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি চ্যালেঞ্জিং এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি ক্যারিয়ার। মেরিন ইঞ্জিয়ারিং মুলত সামুদ্রিক জাহাজ, ডক ও যন্ত্রাংশ সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের কর্মক্ষেত্র সাধারনত জলে এবং স্থলে দুই জায়গাতেই হয়ে থাকে। ৩ বছরের কোর্স শেষে একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ক্যাডেট লাভ করে। যাকে প্রিসি মেরিন সার্টিফিকেট বলা হয়। যা দিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজ ছাড়াও দেশি-বিদেশি নৌবন্দর, জাহাজ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, শিপবিল্ডিং করপোরেশন, শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ডসহ পাওয়ার প্লান্টে কাজের সুযোগ থাকে।

ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার শেষে খুব দ্রুত চাকুরি পাওয়া যায়। শুধু দেশেই নয় দেশের বাহিরেও একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার গড়ার অপার সম্ভাবনা আছে। মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, দুবাই, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া সহ আরও অনেক দেশে আপনি নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা বেতনের দিয়ে চাকরি শুরু করতে পার। এ পেশায় দ্রুত পদোন্নতি হয়। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সহজেই জাহাজের সর্বোচ্চ পদে পদান্নিত হওয়ার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ানো হয়। সরকারী বেসরকারী মেরিন ইন্সটিটিউটে এ কার্যক্রম চালু আছে।

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

শিল্পায়নের এ যুগে হাতেগনা যে কয়েকটি পেশাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধরা হয় তার মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অন্যতম। উনবিংশ শতাব্দীতে বিদ্যুৎশক্তি আবিষ্কারের পর এর জনপ্রিয়তা ব্যপক হারে বাড়তে থাকে। তখন থেকেই বিশ্ব সামনের দিকে এগিয়ে চলছে  ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরে। বর্তমান সময়ে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু পাওয়ার সেক্টরে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিপনন ও সরবরাহতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে যোগ হয়েছে কম্পিউটার, রোবট সিস্টেম, অটোমেশন, রাডার, টেলিকমিউনিকেশন ইত্যাদি প্রযুক্তি।

আরও পড়ুনঃ

দেশে বিদেশে একজন সৎ মেধাবী ও দক্ষ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অনেক চাকুরিক্ষেত্র রয়েছে। পাওয়ার সিস্টেম, বিদ্যুৎ অধিদপ্তর, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল শিল্প, এরোস্পেস ছাড়াও বিভিন্ন সরকারী বয়ে সরকারী ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোতে উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ ও অটোমেটেড মেশিনের মেইন্টেনেন্সে চাকুরির সুযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যাদের মাসিক বেতন ১০ হাজার থেকে ২/৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বেসরকারি কারখানা গুলোতেও সহকারী প্রকৌশলী থেকে ম্যানেজার,  জেনারেল ম্যানেজার পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব। এবং সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে সরাসরি মেজর পদে নিয়োগ দেয়া হয় যা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের প্রধান মেজর জেনারেল পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া বহির্বিশ্বেও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পেশা বলে বিবেচিত করা হয়। যেহেতু ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজের পরিধি ব্যাপক ও জটিল তাই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আনা জরুরি। একজন দক্ষ ও কর্ম চঞ্চল ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অবশ্যই গণিত ও পদার্থ বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

সৃষ্টি শুরু থেকেই পুরকৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সূচনা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-কে প্রকৌশল জ্ঞান এর মা বলা হয়। ধারণা করা হয় প্রাচীন মিসরে ৪ হাজার আগে পুরকৌশলবিদ্যার প্রসার ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে রোম, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এবং ১৮২৮ সালে লন্ডনে Institution of Civil Engineers এটিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা দীক্ষায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পুরোকৌশল বিদ্যা গুরুত্ব বহন করছে। এবং দিনদিন এর চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুবাই সিঙ্গাপুর নিউজিল্যান্ডকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বর্গ বলা হয়। এসব দেশে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে তৈরি হচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা। আমাদের দেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনার একটি অন্যতম বিষয় বলে বিবেচিত হয়। দেশের প্রায় সব সরকারী বেসরকারী পলিটেকনিক সহ সকল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ যথেষ্ট। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুযোগ দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ

বাংলাদেশে নতুন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন ২৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে ৩৫ হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া অভিজ্ঞতার দিক থেকে সেই আয় বেড়ে লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে ভৌগলিক কারণে বিশ্বের একেক দেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা একেক রকম। যার কারনে তাদের বেতনে বেশ তারতম্য দেখা যায়। শুধু দেশেভেদে নয়, এ পার্থক্য আমেরিকার কিংবা অন্যান্য দেশের বিভিন্ন স্টেট গুলোতেও দেখা যায়। এরই সাথে অভিজ্ঞতার কারণেও একজনের সাথে আরেকজন ইঞ্জিনিয়ারের মাঝে বিশাল পার্থক্য দেখা দেয়। প্রমশন, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রাধান্য পায় তা হলো অভিজ্ঞতা। তাই শুধু দেশ ভেদে যে বেতনের তারতম্য দেখা যায় তা নয়। এখানে অভিজ্ঞতার অনেক সময় মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন

 

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

কম্পিউটারের আবিষ্কার শুধু গণনার জন্য হলেও এখন কম্পিউটার ছাড়া কোনো কাজ কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা দেশে এবং দেশের বাইরে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক্সে আইটি সেক্টর বিশাল জায়গা করে নিয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনেক রাস্তা খোলা আছে। এ বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা মূলত দুই ভাগে কাজ করেন। কেউ হন প্রোগ্রামার আবার কেউবা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। এ দুই ধরনের কাজেই শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া গ্রাফিক্সের কাজেও প্রচুর চাহিদা আছে। পাশাপাশি রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং এর মতো সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।

শুধু দেশে নয়, বরং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতনও অতি উচ্চ মানের। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে বেতন শুরু হয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার থেকে। আর দেশেও ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা সর্বনিম্ন বেতন হয়ে থাকে। অনেকেই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় চাকরি শুরু করেন। শুরুতে বেতন অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। বাংলাদেশে বেশির ভাগ শুরুতে সহকারী প্রোগ্রামার, অনেকে সিনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে যোগ দেন। কিছু কিছু জায়গায় সিস্টেমস অ্যানালিস্ট হিসেবেও কাজ হয়। সব মিলিয়ে একজন কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার বসে থাকে না। চাকুরি না হলেও নিজের দক্ষতা ঘরে বসে বাহিরের দেশের ক্লাইন্টদের দেখি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা কামানোর সুযোগ আছে।

 

আরও পড়ুনঃ

 

চাকুরির বাজার নিরূপণে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্যারিয়ার গড়ার সেরা পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই পোস্টটি আপনার পছন্দের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। জানিয়ে রাখি, ২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা হয় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসবুক গ্রুপ। আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছি। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।