কারিগরি শিক্ষার্থীদের মূল‍্যায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জটিলতা

২০২০ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে SSC সমমান পর্যায়ের প্রায় পৌনে দুই লাখ শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফল মূল্যায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে SSC (ভোকেশনাল) পাস করে জেনারেল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও। চলতি বছর প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বলে জানায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্র। এছাড়া SSC-ভোকেশনালে প্রায় আট হাজার ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সে ছিল প্রায় এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া Diploma in Engineering এর অষ্টম পর্বে শুধু মৌখিক পরীক্ষা না হওয়ায় সাত মাস ধরে অপেক্ষা করছে প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী।  এদিকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (JSC) ও মাধ্যমিক (SSC) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এবারের HSC ও সমমানের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় কারিগরিতে HSC তে সমমানের পরীক্ষার্থী প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার শিক্ষার্থী তাদের মূল্যায়ন নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ

HSC সমমানের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং চার বছরের কোর্স, যা আটটি সেমিস্টারে বিভক্ত। সব সেমিস্টারের ফল সমন্বয় করে চূড়ান্ত রেজাল্ট দেওয়া হয়। শুধু মৌখিক পরীক্ষা না হওয়ায় অষ্টম সেমিস্টারের প্রায় ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী সাত মাস ধরে আটকে আছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্লা কালের সংবাদ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ কলেজের চেয়ে ভিন্ন। বিএম প্রথম বর্ষের প্রকাশিত ফল রয়েছে। আবার SSC-ভোকেশনালে অনেকের JSC’র সার্টিফিকেট নেই। তাই তাদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া-পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। একাধিক প্রস্তাব আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সেখান থেকে যেটি চূড়ান্ত করা হবে সে অনুসারেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কারিগরিতে শিক্ষার্থী টানতে বয়সের বাধা না থাকাসহ নানা ছাড় দেয় সরকার। JSC’র সার্টিফিকেট না থাকলেও শিক্ষার্থীরা SSC ভোকেশনালে ভর্তি হতে পারে। ফলে ২০২০ সালের HSC ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের অর্ধেকেরই JSC সার্টিফিকেট নেই। SSC ভোকেশনাল পাসের পর সাধারণ কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরও JSC’র সার্টিফিকেট নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের জন্য SSC’র সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য কিছু হাতে নেই। কিন্তু শুধু SSC’র সার্টিফিকেট দিয়ে HSCর মূল্যায়ন যুক্তিযুক্ত হবে না।

আরো পড়ুনঃ

রাজধানীর মহানগর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সলিম উল্লাহ সেলিম জানালেন আরেক জটিলতার কথা। তিনি বলেন, ‘কারিগরি এইচএসসি সমমানের পরীক্ষার্থীদের এখনো প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। আমার জানা মতে, কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা ফরম পূরণের পর দেশের বাইরে চলে গেছে। দু-চারজন শিক্ষার্থী নানা কারণে মৃত্যুবরণও করতে পারে। এখন সবাইকে পাস করিয়ে দিলে মৃত বা বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীও পাস করে যাবে। তাই ফল ঘোষণার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবেশপত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থান যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা হয় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসবুক গ্রুপ। আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছি। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।