ছোটবেলার খেলা জনপ্রিয় কম্পিউটার মোবাইল ভিডিও গেমস

0
616
মোবাইল ফোন হোক কিংবা কম্পিউটারে, গেমস খেলার হাতেখড়ি আমাদের সকলের ছোটবেলাতে হয়েছিলো। চাতক পাখির মতো চোখ আটকে থাকত মোবাইল ও  কম্পিউটারের স্ক্রিনে। বন্ধুদের সাথে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলত মিশন ফিনিস করে প্রথম হওয়ার। আবার এক কম্পিউটারের ৪/৫জন বসে অপেক্ষা করত কার কবে সিরিয়ালে আসে। শৈশব কৈশরের এই দুরন্তপনায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করে ছিলো লিজেন্ডারি সব ভিডিও গেমস গুলো। এই পুরনো গেমগুলোর স্মৃতিচারণ রোমন্থন করাতে আপনাদের সামনে আরেকবার হাজির হয়েছি।

GTA Vice City

গেমস

জিটিএ ভাইস সিটি। নামটাতেই কেমন যেনো এক আবেগ ভালোবাসা কাজ করে। টমি মিয়ার মিশন, মালাবু ক্লাবের ডান্স পার্টি, সি বিচে ঘুরাঘুরি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দিয়াজের সব অপকর্ম, ৫০টাকার বিনিময়ে চোরকে পুলিশের কাছে ধরে দেওয়া, উবার-পাঠাও চালিয়ে ১০০/২০০ টাকা কামানো, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাইক-কার হাইজেক করা, পুলিশের সাথে পাংজ্ঞা নিয়ে ৭ স্টারের পুলিশ আর্মি হেলিকপ্টারের কাছে ধাওয়া খাওয়া। আর সব শেষে লিভ-মি-এলোন চিট কোড লিখে পাপ মুক্ত হওয়া। ভাইস সিটি নানান সময়ে নানান মোড এসেছে তবে ঢাকা পলিটেকনিকের মারুফ মোস্তফা ভাইয়ের বাংলা ভাইস সিটি ছিলো সবচেয়ে আধুনিক এবং সময়উপোযুক্ত। বাংলাকে ঘিরে গেমপ্লে, স্টরি সাউন্ড ইফেক্ট, ডাবিং, গান এবং মিশন সবই ছিলো এক কথায় অনবদ্য। তারা বেশ প্রসংশিতও হয়েছিলো গেমিং কমিউনিটিতে।

House of The Death

গেমস

ছোটবেলার সবার পরিচিত গেম House of The Death. ফার্স্ট পার্সন শুটিং মোডে ভুতুড়ে রাজপ্রসাদে জম্বিস মারতে হত House of The Death গেমটিতে। প্রথমে হাতে পিস্তল ধরিয়ে দেওয়া হত এরপর শর্টগান এবং শেষ স্টেজে এসে সাব মেশিন গান। সময় বাড়ার সাথে সাথে জম্বিসদের পাওয়ার বেড়ে যেত আর তাদের কিল করা ছিলো দুরুহ ব্যাপার। এবং সব শেষের দৈতাকার বসকে মারতে বেশ বেগ পোহাতে হত। হাতে পায়ে কিংবা বডির চেয়ে পাট্টাসে এক হেডশুটেই জম্বিসদের কিল করা সহজ ছিলো । গেমটির সবচেয়ে মজার অংশটি ছিলো যখন পিস্তলের গুলি শেষ হয়ে যেত তখন রিলোড রিলোড বলা সাউন্ড ইফেক্টি।  ৯০ এর দশকে গেমটি বাজারে আসলেও এপর্যন্ত মোট ৫টি সিরিজ রিলিজ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান  সেগা। 

Need for Speed

Need for Speed রেসিং ভিডিও গেমিং জগতে একছত্রভাবে অধিপত্য বিস্তার করে  আসছে। গেমটি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সফল রেসিং ভিডিও গেম সিরিজ এবং সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভিডিও গেম ফ্র্যানচাইজি। ১৯৯৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত নিড ফর স্পিড সিরিজের ১৪ কোটি কপি বিক্রিত হয়েছে। ছোটবেলার ক্রেজ রেসিং গেমটির মোট ২৪টি এডিশন বাজারে এনেছে। গেমটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকায় ২০১৪ সালে  গেমটির আদলে হলিউড সিনেমা মুক্তি পায় যা বক্স অফিসে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। 

 

আরো পডুনঃ

V-COP

গেমসফেসবুকে প্রায় একটি পোস্ট দেখতে পাওয়া যায় If you play this game, then your childhood was awesome. বলছিলাম ভার্চুয়াল কোপ বা ভিকোপ গেমের কথা। ব্যাংক ডাকাতি করা একদল ডাকাত এবং তাদের বন্দি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের ঘিরে গেমটির গল্প। ডাকাতদলকে ধর‍তে তাদের গুলি করে মেরে ফেলা যাবে, তাদের গাড়ি উড়িয়ে দেওয়া যাবে তবে সাধারণ মানুষদের গুলি করা যাবে না। একটি সাধারণ মানুষ কিল করলে কমে যেত একটি করে ক্রেডিট, এভাবেই এগিয়ে যেত গেমের কাহীনি। গেমের তিনজন চৌকস পুলিশ অফিসারেরা ছিলেন মাইকেল, জেমস এবং মার্শাল। গেম নির্মাতা প্রতিষ্টান সেগা  ভার্চুয়াল কোপকে ১৯৯৪ সালে বাজারে আনে তার পরের বছর মুক্তি দেয় গেমটির পরবর্তি সিরিজ ভার্চুয়াল কোপ টু বা ভিকোপ-টু। 

Snake Game

গেমসছোটবেলায় নোকিয়া মোবাইলে স্নেক গেমটি খেলে নাই এমন মানুষ খুব কমই ছিলো। অবসরে কাজের ফাকে কিংবা বাবা-মায়ের কাছে থেকে ফোন চুরি করে আমরা সকলেই কমবেশি এ গেমটি খেলেছি। ১৯৯৭ সালে নকিয়া ৬১১০ সিরিজের মোবাইলে গেমটি প্রথম প্রগ্রাম করা হয়। এবং জেনে আশ্চর্যিত হবেন  যে গেমটি প্রায় ৪০ কোটিরও বেশি ফোনে ইন্সটল করা আছে। এপর্যন্ত প্রায় ৯টি আপডেটেড ভার্শন এসেছে গেমটির। আরেকটি মজার তথ্য হলো গেমটির প্রথম লেভেলে ২১২ এর বেশি পয়েন্ট করা যেত না এবং লেভেল উত্তির্নের জন্য ১০০ পয়েন্ট বোনাস দেওয়ায় সব মিলিয়ে ৩১২তে গিয়ে দাঁড়াত। এবার আপনি কমেন্টে জানিয়ে দিন আপনার সর্বোচ্চ স্কোর কত ছিলো। 

Road Rash

গেমসছোটবেলার ক্রাশ রোড রাশ। ৯০ দশকে জন্মিয়েছে অথচ রোড রাশ খেলে নাই এমন গেমার খুজে পাওয়া বেশ কষ্টকর। যাদের কাছে কম্পিউটার ছিলো তারা তাদের জীবন অন্তর একবার হলেও খেলেছে গেমটি। বাইক নিয়ে বাউলি মারা, পুলিশের দাবরানি খাওয়া, সুযোগ পেলেই লাথি মেরে ফেলে দেওয়া আর বেসবলের ব্যাট হাতে কোপাকোপি। সবই এই এক লিজেন্ডারি গেমের কল্যানে পাওয়া।  সাম্প্রতিক রিলিজ পাওয়া রোড রেডেম্পশন গেমটি রোড রাশের আদলে তৈরি করা হয়েছে । অতীতে ফিরে যেতে চাইলে গেমটি অন্তত একবার  হলেও খেলে দেখতে পারেন। 

 

মোস্তফা

গেমসবাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের শিশু-কিশোরদের কাছে ‘মোস্তফা’ নামে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া গেমটির আসল নাম ‘ক্যাডিলাকস্ অ্যান্ড ডাইনোসরস’। অনেকের গেমিং জগতে হাতেখড়ি হয়েছে এই ভিডিও গেমের মাধ্যমে। দোকানে গিয়ে কয়েন দিয়ে খেলা গেমের কথা ৯০’র দসকের ছেলেদের কোনভাবেই ভুলে যাওয়ার কথা নয়।  গেমে হিরো হিসেবে মোট চারটি চরিত্র রয়েছে। জ্যাক টেনরাক , হ্যানা ডান্ডি , মুস্তাফা কায়রো , মেস ও’ব্রাডোভিক ।  একেকজন হিরোর নিজস্ব শক্তি, সামর্থ্য ও দুর্বলতা আছে। মারামারি ও দক্ষতার বিচারে জ্যাককে ভারসাম্যধারী হিরো বলা যেতে পারে। আবার বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার ও ত্রিমুখী লাফ দেয়ার ক্ষেত্রে হ্যানা ডান্ডি ছিল বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন।

আরো পডুনঃ

আর বাংলাদেশে মুস্তাফা চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় যে, গেমটির আসল নাম বাদ দিয়ে ‘মোস্তফা’ নামেই সবাই গেমটির নামকরণ করে ফেলেছে! অন্যদিকে মানুষ থেকে শুরু করে বিশালাকৃতির ডাইনোসর পর্যন্ত সবাইকে তুলে আছাড় ফেলে দিতে পারা মেস ও’ব্রাডোভিক ছিল আমার অন্যতম পছন্দের একটি ক্যারেক্টার। আপনার সবচেয়ে পছন্দের ক্যারেক্টার কোনটি ছিল আমাদের কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না অবশ্যই ।  

কম  পিক্সেলের ছোট্ট এই গেমটি বর্তমান সময়ের দুর্দান্ত গ্রাফিক্স ও হাই ডেফিনেশন গেমগুলোর কাছে নিতান্ত হাস্যকর বস্তু বলে মনে হতে পারে। কিন্তু যারা এই গেম খেলে শৈশব-কৈশোর পার করে এসেছেন, শত শত বিকেল আর অবসর কাটিয়েছেন মোস্তফার সাথে, তাদের কাছে গেমটি নিঃসন্দেহে আজীবন বিশেষ একটি স্থান দখল করে থাকবে।

IGI

গেমস৯০ দশকের শেষের দিকে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যেসব First Person Shooter Game তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল IGI অথবা Project IGI. 512 MB Ram এবং 128 MB Graphics কার্ডে খেলতে পারা স্পাই কাহিনী নির্ভর গেমটি ৯০ দশকের বাচ্চাকাচ্চাদের কাছে ছিল পুরাই কাচ্চি-বিরিয়ানি। এই গেমের প্রধান চরিত্র হল জন নামের এক আমেরিকান স্পাই। সে রাশিয়া, লিবিয়া সহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মিশনে যায় । গেমটি মোট 1 9 টি মিশনে বিভক্ত ছিল । প্রত্যেকটি মিসনের কিছু Objective থাকতো যা মিশন শেষ হওয়ার পূর্বেই অর্জন করতে হত । আবার কিছু কিছু মিশন এ Time limit বেধে দেয়া থাকতো ফলে মিশন গুলো কমপ্লিট করতে বেশ বাগ পেতে হত ।  ।  আপনি যদি এই গেম এর ১৯টি মিশন শেষ করে থাকেন তবে আপনি ইতিমদ্ধেই লিজেন্ড এর খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন ।  

আরো পডুনঃ

বড় হওয়ার সাথে সাথে আপডেট হয়েছে টেকনলোজী, বাজারে এসেছে হাই কনফিগারেরশনের গেম। ছোটবেলায় উন্মাদ হয়ে থাকা সেই পুরোনো গেমগুলো আজকের দিনে খেলা না হলেও স্মৃতির পাতায় স্বরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। আপনার খেলা প্রিয় গেমের নাম জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে। এবং ফেসবুক হোয়াটসএপ ম্যাসেঞ্জাদের শেয়ার করে বন্ধুদের জানিয়ে দিন প্রিয় গেমগুলোর কথা। ধন্যবাদ সবাইকে, ভালো থাকবেন।