বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও গেম । মোবাইল ও কম্পিউটার গেমস

0
544

ক্লাসে-অফিসে-অবসরে কিংবা জ্যামে বসে ফোন হাতে  আমরা কমবেশি সকলেই গেম খেলে থাকি। ক্যান্ডি ক্রাশ, ক্লাশ অব ক্লান বা পাবজি মোবাইল গেমগুলো শুধু আমাদের অবসর যাপন আর বিনোদনের  জন্যই  নয় বরং বিজ্ঞানীরা বলছে গেমিং এর ফলে একজন মানুষের যেমন ব্রেইনের নিউরন এক্টিভ হয় তেমনি বাড়ে প্রব্লেম সল্ভিং স্কিল। তাই তো পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ অর্থ্যাত প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ নিত্যদিন গেম খেলছে। তো বন্ধুরা আজকের এই আপনারা জানতে যাচ্ছেন দুনিয়া কাপানো সব ভিডিও গেম সম্পর্কে।

ক্লাশ অব ক্লান

ক্লাশ অফ ক্লান, সিওসি বা কক যে নামেই ডাকুন না কেনো আপনি মোবাইল গেমার হয়ে থাকলে এই গেমের কথা নিশ্চয় শুনেছেন। ফ্রি অনলাইন ভিত্তিক গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুপারসেল। বর্তমানে এটি গুগল প্লে এর সর্বোচ্চ ডাউনলোড হওয়া গেমের তালিকায় ৯৬ তম অবস্থানে আছে, যার সংখ্যা প্রায় পাচঁ কোটি বার। এছাড়াও এটি এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা গেম, প্রতিদিন এই গেম থেকে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার আয় হয়।

মাইনক্রাফট

আমাদের দেশে মাইনক্রাফট গেমটি খুব বেশি প্রচলিত না হলেও বহির্বিশ্বে এই গেইমটি বেশ জনপ্রিয়। থ্রিডি ব্লক দিয়ে তৈরি মাইনক্রাফট এমন একটি গেইম যার কোনো মিশন নেই, নেই কোনো লেভেল। গেমটি আপনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় ইনফিনিটি পরিমাণ ব্লকস ও বিভিন্ন ক্যারেক্টার দিয়ে নিজের মতো করে গেমটি সাজিয়ে নেওয়ার। এই গেমে নিজের বাড়িঘর, চাষাবাদ, ফার্ম, ইন্ডাস্ট্রি এমনকি পুরো শহর তৈরি করতে পারবেন, পারবেন তিনটি ভিন্ন ডাইমেনশনাল ওয়ার্ল্ডে নিজের মতো করে সার্ভাইভ করতে। তাই তো সর্বকালের সবথেকে বেশিবার ডাউনলোড হওয়া প্রায় পাচঁ কোটি ইউজারের বিশাল পরিবার নিয়ে ১০ বছরের পুরোনো এই লিজেন্ডারি গেইমের বিকল্পে অন্য কোনো গেইম এখনও জনপ্রিয়তা পায় নি। এপর্যন্ত গেমটি বিশ্বব্যাপী ডাউনলোড হয়েছে  ১৭.৬ কোটি বার। 

ফ্রি ফায়ার

মোবাইলে তুমুল জনপ্রিয় আরেক ব্যাটাল রয়াল গেম গেরেনা ফ্রি ফায়ায়। এপর্যন্ত গেমটির রেজিস্টার্ড প্লেয়ার সংখ্যা সাড়ে চার কোটি। গেমটি জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ লো কনফিগারেশনে যে কোনো মোবাইলে কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই খেলা যায়। গেমটির গ্রাফিক্স/স্টোরি/যুদ্ধাস্ত্র/আধুনিক সব গাড়ি সবই অসাধারণ। পাবজি ও ফোর্টনাইটের মতো ফ্রি ফায়ারেও খেলার লক্ষ্য দলবদ্ধভাবে বা একাই যুদ্ধ করে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।

জিটিএ

ছোটবেলায় GTA Vice City গেম খেলে নাই এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুস্কর । Rockstar এই বিখ্যাত গেম ছাড়াও আরও অনেক গেম রিলিজ করেছে তাদের মধ্যে Grand Theft Auto 5 সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। GTA5 এর অ্যাকশান, গ্রাফিক্স সবকিছুই আপ টু দ্যা মার্ক। এছাড়া গেমটাতে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে যার ফলে গোলাগুলি, হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমবাট গুলা একটু কঠিন। গেমটি ৬৯টি মিশন ও ৭৯টি আলাদা গল্প নিয়ে নির্মিত হওয়ায় যা শেষ করতে অনেকদিন সময় লেগে যায়। GTA সিরিজের সবচেয়ে বেশিবার খেলা গেম এটি এবং দুনিয়ার প্রায় ৪২% গেমার এই গেম খেলে থাকে।  সবমিলিয়ে এই গেম বেশ ভালো এবং গেমারদের জন্য এটা বিরিয়ানি।

কল অফ ডিউটি

বিশ্বের অন্যতম সেরা ফার্স্ট পার্সন শুটার গেম সিরিজ Call of Duty। গেমটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবলম্বনে তৈরি করা হলেও পরবর্তি সিরিজ গুলোতে ভিয়েতনাম যুদ্ধ  এবং এর সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এখন পর্যন্ত কল অফ ডিউটি সিরিজের মোট ৭টি গেম বের হয়েছে যা বিশ্বব্যাপি ৫৫ মিলিয়ন কপি বিক্রিত হয়। ইতিহাস সৃস্টিকারি এই গেমটি দূর্দান্ত স্টোরির জন্য আজ সব গেমারদের ভালোবাসায় পরিনত হয়েছে। গেমটির গ্রাফিক্স, অ্যাকশান, স্টোরি বিল্ডাপ সবকিছুই পারফেক্ট৷  আর এন্ডিং এর টুইস্ট এ ঝটকা খেতে হবে নিশ্চিত। গেমটি শুধু কম্পিউটারেই না সাম্প্রতি মোবাইলে জন্যেও উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং রিলিজের প্রথম মাসে ডাউনলোডের সংখ্যা ছিলো ১৪৮ মিলিয়ন যা পাবজি মোবাইল ও ফর্টনাইটের যোগফলেরও অনেক বেশি। 

আরো পডুনঃ

ফর্টনাইট

আড়াই কোটি গেমারের বিশাল পরিবার নিয়ে সর্বাধিক জনপ্রিয় গেমের লিস্টে প্রথমের দিকে পাওয়া যায় ফর্টনাইট।  ফর্টনাইটের ৭২% প্লেয়ারের বয়স ১৮ বছরের কম এবং আমেরিকায় ৫৩% ফর্টনাইট প্লেয়ার এই গেম ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটাল রয়াল গেম খেলে না। বস্তুত গেমটি পশ্চিমার টিনেজারদের উদ্দেশ্য করে তৈরি করা হয়েছে। তাই তো এই গেমটি ইউরোপ-আমেরিকায় পাবজির থেকেও অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। শুধু  মাল্টিপ্লেয়ার মোডেই খেলা যাবে ফোর্টনাইট, নেই কোনও কাহিনী বা সিঙ্গেল প্লেয়ার মোড। খেলার লক্ষ্য একটিই, দলবদ্ধভাবে বা একাই একটি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা

লীগ অব লিজেন্ড

২০০৯ সালে রিলিজ হওয়া মাল্টিপ্লেয়ার গেম League of Legends এর টোটাল গেমার সংখ্যা প্রায় ১১৫ কোটি। ২০১৪ সালে গেমটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায়। সেসময় প্রতিদিন গেমটি প্রায় ২৭ মিলিয়ন গেমার খেলত আর মাসে ৬৭ মিলিয়ন। প্রাচীন যুদ্ধাকৌশলের আদলে তৈরি গেমটি  দুইটা টিমের মধ্যে খেলা হয়ে থকে 3v3, 5v5। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার টিমমেট নিতে পারবেন। এই গেমে প্রায় ৯৫ টা ক্যারেকটার আছে যাদের মধ্যে থেকে ১ জনকে নিয়ে আপনার যাত্রা শুরু।  এই খেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিপক্ষের NEXUS ধ্বংস করা। সেটা করতে হলে আপনাকে বিপক্ষের CHAMPION, TURRET, MINION ইত্যাদি ধ্বংস করতে হবে। আপনি যতই বিপক্ষের চ্যাম্পিয়ন মারবেন আপনার লেভেল বাড়বে এবং সেই সাথে আপনাকে gold দিবে যা দিয়ে আপনি আপনার চ্যাম্পিয়নকে বিল্ড করতে পারবেন, বিভিন্ন আইটেম কেনার মাধ্যমে।

কাউন্টার স্ট্রাইক

কাউন্টার স্ট্রাইক গেমটি  মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলোর মধ্যে অনেক আগে থেকে আধিপত্য করে আসছে। ১৯৯৯ সালে এই গেম সিরিজটির ফার্স্ট ভার্সন বের হয়। এই সময়ের মধ্যে এর অনেকগুলো ভার্সন বের হয়েছে যার মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি খেলা হচ্ছে কাউন্টার স্ট্রাইক গ্লোবাল অফেন্সিভ। কল অব ডিউটির মতো কাউন্টার স্ট্রাইকও ফার্স্ট পারসন শুটার মাল্টিপ্লেয়ার গেম। গেমটিতে ডেথম্যাচসহ নানা প্রকার গেমমোড আছে। গেমের মধ্যে রয়েছে অনেক ধরনের ম্যাপ। আপনি যেখানে খেলতে চান সেই ম্যাপ সিলেক্ট করে খেলতে পারবেন।

পাবজি মোবাইল

প্লেয়ার আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড বা পাবজি গেম সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি। ২০০০ সালে প্রকাশিত একটি জাপানি মুভির কন্সেপ্ট থেকে নেওয়া গেমটিতে ১০০ জন প্লেয়ারকে একটি আইল্যান্ডে একে-অপরের সাথে যুদ্ধের জন্য প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘরবাড়ি থেকে অস্ত্রসস্ত্র লুট করে যুদ্ধে যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে সেই হবে উইনার আর সে পাবে ভার্চুয়াল চিকেন ডিনার। পাবজি গেমটি প্রকাশ করে পাবজি কর্পোরেশন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ভিডিওগেম কোম্পানি ব্লু হোলের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান। পাবজি মোবাইল-কম্পিউটার দুই মোডেই খেলা যায়। এপর্যন্ত গেমটির ৫০মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড করা হয়েছে অন্তত ২৪কোটি বার।  

 

আরো পডুনঃ

 

২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা হয় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসবুক গ্রুপ। আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছি। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।