৯০ দশকের হারানো যে খেলনা গুলো আপনাকে নষ্টালজিয়া করে দেবে

আমাদের সকলের ছেলেবেলা কেটেছে রুপকথার কেচ্ছে-কাহিনী, আনন্দ-ফুর্তি, খেলাধুলা আর দুরন্তপনায়। প্রতিটি মানুষের শৈশব তার জীবনের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। শৈশবের মধুর সেই স্মৃতিগুলো আজও অমলিন। এই স্মৃতি গুলোকে আরেকটু রঙ্গিন করে তুলেছিলো  আমাদের খেলার সাথী সব লিজেন্ডারি খেলনাগুলো। ছোটবেলার নস্ট্যালজিয়াকে উসকে দিতে আজকের আমাদের এই আয়োজন। ফিরে নিয়ে যাবো সোনালী অতীতে, মনে করিয়ে দিবো হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো। পুরো পোস্ট পড়ার আমন্ত্রন রইল। কথা দিচ্ছি বেদনাতুর হতে বাধ্য হবেন আপনি।

রুবিক‌স কিউব

Rubik's Cube | Rubiks cube, Cube, Cube image

ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেলনা রুবিক্স কিউব। ১৯৭৪ সালে অধ্যাপক এর্নো রুবিক এটি উদ্ভাবন করেন। রুবিক নিজে এর নাম দিয়েছিলেন ম্যাজিক কিউব কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে Ideal Toys নামের এক খেলনা প্রস্তুতকারী কোম্পানী এর নাম দেয় রুবিক্‌স কিউব অর্থাৎ রুবিকের ঘনক। এক দুই কিংবা তিন উপায়ে নয়, প্রায় ৪৩ কুইন্টট্রিলিয়ন উপায়ে এই পাজেলটি মেলানো যায়। যদি কেউ প্রতি উপায়ে রুবিক্স কিউবটি মেলাতে চেষ্টা করে তবুও কোটি কোটি বছর লেগে যাবে।  জেনে অবাক হবেন যে ২২ বছরের Feliks Zemdegs মাত্র 4.22 seconds এই রুবিক্‌স কিউব সমাধান করে Guinness book of  world record এ নাম লিখিয়েছেন ।

ইয়ো-ইয়ো

YoYo.tv Yo-Yo Tutorial: Binding on Make a GIF

বাঙালির লোকজ ইচিং-বিচিং-চিচিং-চার পর সকলের হৃদয়ে একটা বড় জায়গা করে নিয়েছিলো ইয়ো ইয়ো। দুটি ছোট গোল চাকতির  মাঝে বাঁধা লম্বা দড়ি দেওয়া এই খেলনাটির উৎপত্তি হয়েছিলো প্রাচীন গ্রীসে। খ্রিষ্টপুর্ব ৫০০ বছর আগের এই খেলনাটি পৃথিবির নানা দেশ ঘুরে পশ্চিমাদের নজরে আসে ১৯১৬ সালে। আর তারই ১০ বছর পরে  খেলনাটি নেয় এক নাটকিয় মোড়। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু হয় ইয়ো-ইয়োর,  আর এই সময় এতোটা জনপ্রিয় হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের শুধু একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে তিন লাখ ইয়ো-ইয়ো তৈরি হতো। শুরুর দিকে ইয়ো-ইয়ো কাঠের তৈরি হলেও ঘুর্ণনের জটিলতার কারনে পরবর্তিতে তা প্লাস্টিকে ও মেটালে তৈরি শুরু হয়। ক্রিকেট ফুটবল হকির মতো ইয়ো ইয়োরও আছে ইন্টারনেশ্নাল ফেডারেশন আর প্রতি বছর ৩৩টি দেশের প্লেয়ারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ইয়ো ইয়ো চ্যাম্পিয়ানশিপ।

আরও পড়ুনঃ

টেডি বিয়ার

Teddy Bear Dancing GIF by Snuggle Serenades - Find & Share on GIPHY

দুনিয়াজুড়ে টেডি বিয়ার নামের জনপ্রিয় খেলনাটি নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।  একে অপরকে ভালবাসা জানাতে এবং বাচ্চাদের সেরা পছন্দের খেলনার তালিকায় টেডি বিয়ার বেশ জনপ্রিয়। বিশ শতকের প্রথম দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মরিস মিচটম এবং জার্মানিতে রিচার্ড স্টিফ পৃথক পৃথকভাবে একইসময়ে এটি উদ্ভাবন করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর “টেডি” রুজভেল্টের নামানুসারে এই খেলনার নামকরন করা হয় টেডি বিয়ার । বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫টি উপহারের মধ্যে চতুর্থ নাম্বারে আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও সুদৃশ্য টেডি বিয়ার  যার মূল্য ৪৩ হাজার  পাউন্ড অর্থাৎ আমাদের দেশীয় টাকায় প্রায় ৫২ লাখ টাকা।  সর্বনিম্ন বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া সেলাইযুক্ত টেডি বিয়ারটি কেবলমাত্র 0.29 ইঞ্চি লম্বা, দক্ষিণ আফ্রিকার “মাইক্রোবিয়ার” নির্মাতা চেরিল মোস দ্বারা তৈরি, যার বৃহত্তম সৃষ্টিগুলি অর্ধ ইঞ্চির চেয়ে একটু লম্বা।

গেম বয়

Gameboy GIFs | Tenor

বর্তমান সময়ে আমরা সবাই কমবেশি ভিডিও গেমিং এর প্রতি আসক্ত। কিন্তু এর শুরুটা হয়েছিলো আমাদের ছোটবেলাতে গেমিং বয় এর হাত ধরে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই গেম বয় বাজারে আসার পর পরই পুরো দুনিয়ায় সাড়া জাগিয়েছিলো। খেলনাটির উদ্ভাবন করে Nintendo নামক জাপানি একটি কম্পানি যা প্রথম বাজারে আসে ১৯৮৯ সালের ২১শে এপ্রিল।  গেম বয়ে সবচেয়ে বেশি খেলা গেমটি ছিল টেরিস্ট বা আমরা যাকে বিল্ডিং ব্লক বলে থাকি ।  গেম বয় আমেরিকায় এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল এবং এ পর্যন্ত এর সংখ্যা  বিশ্বব্যাপী ১২ কোটিতে গিয়ে দারিয়েছে ।  কিশোর এবং কিশোরী উভয়ের মাঝে  ধারাবাহিকভাবে সমান  জনপ্রিয়তার কারনে ২০০৯ সালে গেমটিকে National Toy Hall of Fame উপাধি দেয়া হয়।  যা কিনা ৬৮টী সেরা খেলনার মধ্যে একটি।

বারবি ডল

Barbie GIFs | Tenor

পুতুল নাচ, পুতুলের বিয়ে, পুতুলের ঘর সংসার আবহমান গ্রাম বাঙলার ছোট মেয়েদের ঐত্যিহবাহী খেলা ছিলো। এমন খুব কম মেয়ে পাওয়া যাবে যাদের ছোটবেলা পুতুল খেলে কাটে নাই। আর বারবি ডল হলে তো কোনো কথাই ছিলো না। বারবি ডলকে বাঙ্গলার পুতুল খেলার একটু আপডেট ভার্শন বলা চলে।  ১৯৫৯ সালে American International Toy Fair এ বারবি ডল প্রথম সবার সামনে আসে। নানান সাইজের, নানান ক্যারেক্টারের, নানান রঙ্গয়ের বারবি ডল তৈরি হলেও গোলাপি রঙ্গয়ের ফ্যাশন ডল মেয়েদের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। বিশ্বের ১৫০টি দেশে এই ছোট্ট বারবি ডল জনপ্রিয়তা আকাশ্চুম্বি। প্রতি মিনিটে ১০০টির বেশি বারবি ডল বিক্রি হয়। ইউটিউবে এই খেলনার ভিডিওতে নিত্যদিন কোটি কোটি ভিউ হচ্ছে। তাই তো সেরাদের কাতারে কোনো বিতর্ক ছাড়াই জায়গা করে নিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

ফিটজেট স্পিনার

Fidget Spinner GIFs - Get the best GIF on GIPHY

মানসিক চাপ থেকে মুক্তির জন্য আমাদের সকলের পরিচিত খেলনা ফিটজেট স্পিনার।  উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও অবসাদ দূর করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হাতে ঘুরানোর এই ছোট্ট খেলনাটি  ৯০ এর দশকে বাজারে আসলেও বর্তমান সময়ে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি।  খেলনাটি এতো জনপ্রিয় যে এপর্যন্ত ফিটজেট স্পিনারের প্রায় ৭০লাখ ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে। ১০০টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৪লাখ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে ফিটজেট স্পিনার। হরেক রঙের হরেক সাইজের এবং সহজে বহন করা ফিটজেট স্পিনার শুধু কিশোর-কিশোরী নয় বরং সকল বয়সের মানূষের কাছে সমান প্রাধান্য পেয়েছে। আবার এদিকে ফিটজেট স্পিনারে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ায়  ইউরোপ-আমেরিকার অনেক স্কুল কলেজে খেলনাটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।