বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ারঃ চাকুরি উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠন

আন্তর্জাতিকভাবে Diploma Engineering এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। বর্তমান বিশ্ব সামনের দিকে এগিয়ে চলছে Diploma Engineering এর হাত ধরে। সেটা হোক সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, টেক্সটাইল, মেরিন, কম্পিউটার, ক্যামিক্যাল, অথবা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশে দেখা যায় বহু দক্ষ এবং ভালো রেজাল্ট করা Diploma Engineer বেকার জীবন কাটাচ্ছে। আর এই বেকারত্ব দূর করতে যারা ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য আমাদের আজকের এই আয়োজন।

বর্তমান বিশ্বে দক্ষ ও টেকসই প্রজন্ম গড়ে তুলতে  প্রয়োজন হাতে কলমে শিক্ষা বা বাস্তবমুখী শিক্ষার। একমাত্র প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষাই পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে একটি শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে যেতে। দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে একজন ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা অপরসীম। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের যে সব দেশ কারিগরি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সেই সব দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। 

একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করার পর Diploma Engineering এর ৪ বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত যে কোনো পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে করতে পারে।  বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমগুলো হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন হেল্থ টেকনোলজি, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল)। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত সারা দেশে বিভিন্ন জেলা শহরে মোট ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাড়াও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংখ্যা পাঁচশতের বেশী। 

দেশের যেকোনো সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে গণিত বিষয়ে জিপিএ ৩.০০ সহ কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে  এসএসসি পাশ করতে হবে। এছাড়া বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ভর্তির জন্য গণিতে জিপিএ ২.০০ পেলেই চলবে। 

অতীতে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার তেমন গুরুত্ব ছিল না। তবে বর্তমান সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০০৮ সালের পর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভোকেশনালে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী বেড়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে দুই হাজারের বেশি। এই বৃদ্ধির কারণে কারিগরিতে মোট শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। 

শুধু ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যাই বাড়ে নি, একই সাথে বেড়েছে চাকুরিক্ষেত্র ও বেতন স্কেলও। বাংলাদেশ সরকারের সব মিলায়ে চাকুরি আছে সাড়ে বারো লাখ। প্রতি বছর সব চাকুরি মিলায়ে দেড় লক্ষ নিয়োগ হয়। যাদের সিংহভাগ ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রীধারীরা চাকুরীর ক্ষেত্রে শুরুতে সরাসরি ১০ম গ্রেডে যোগদান করেন। প্রায় সকল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা চাকরিতে ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে এন্ট্রি করেন। বেতন স্কেলে মূল বেতন ১৬০০০ টাকা এবং সর্বসাকুল্যে ৩৮৬৪০ টাকা। তারা ক্রমে ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হতে পারেন। অনেকে জেনারেল এডুকেশন থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর করেও চাকরিতে ১০ ম গ্রেডের নিচে যোগদান করেন। তাছাড়া চাকুরির বাজারে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারের তুলনায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াদের সার্কুলার বেশি হয়ে থাকে। 

অন্যদিকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ইলেট্রিক্যাল, সিভিল, মেকানিক্যাল, আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদাও ব্যপক। আইটি সেক্টর ও আইটি ফার্মগুলোতে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের অনেক বড় চাকুরি ক্ষেত্র রয়েছে। প্রাণ আরএফএল, আবুল খায়ের, বসুন্ধরার মতো দেশের নামীদামী সব প্রতিষ্ঠানে বরাবরই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। 

উচ্চ শিক্ষার জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রাজুয়েশন অর্থাৎ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ আছে। এছাড়া ২ বছর মেয়াদী A.M.I.E তে পড়ে IEB মেম্বারশিপ অর্জন করার সুযোগ আছে যে কোনো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের। আবার এদিকে স্কলারশীপ নিয়ে চীন, তুরুষ্ক, জার্মানী ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে উচ্চ শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা আছে।

দেশ গড়ার হাতিয়ার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপে স্বাগতম। ২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা এই গ্রুপ দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছে। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।