ডিপ্লোমা পাশ করার পর কি করবেন – ক্যারিয়ার ভাবনা

একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে পাশ করার পর মনে নানা ধরনের চিন্তা সচরাচর করে ঘুরপাক খায়। অনেকে আবার ৬ষ্ঠ ৭ম সেমিস্টার কিংবা ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং এর সময় থেকে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে। সরকারী চাকুরি, ডুয়েট কোচিং নাকি বাকিটা জীবন বেকার কাটাতে হবে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হাসান। উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বিটাক, শিল্প মন্ত্রণালয়।

সদ্য পাশ করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সামনে মুলত চারটি পথ খোলা থাকে। আর এই চারটি পথে লুকিয়ে আছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার নিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর। আমি এই প্রশ্নের উত্তর গুলো উল্টো ক্রমানুসারে দেওয়ার চেষ্টা করতেছি। যা একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের দুঃচিন্তা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।

  • ডুয়েট কোচিং করবো?
  • সরকারী জব করবো?
  • প্রাইভেট জব করবো?
  • প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে বিএসসি করবো?

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার

প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে বিএসসি

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেই প্রাইভেট ভার্সিটি তে ভর্তি হয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং না করাটা উত্তম বলে আমি মনে করি। কারন, আমরা যারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি তারা সাধারণত অল্প সময়ে চাকরী পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে পলিটেকনিকে ভর্তি হই। তাই পাশ করার পর চাকরীতে যোগ দিন। তারপর যদি চাকরী কে মানিয়ে বিএসসি করতে পারেন তবে চাকরীর পাশাপাশিই বিএসসি করুন। এতে আপনার স্কিলও বিল্ডআপ হবে এবং গ্রাজুয়েশনটাও কম্পলিট হবে। এর ফলে বিএসসি পাশ করার পর চাকরীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি জবও চেঞ্জ করতে পারবেন। সেখানে বিএসসি ডিগ্রিটাও কাজে লাগনোর সুযোগটাও পেয়ে যেতে পারেন। আর যদি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতেই বিএসসি করার ইচ্ছা থাকে থাকে তাহলে পলিটেকনিক এ ভর্তি হয়ে অযথা দু’বছর সময় নষ্ট না করাই উত্তম। মনে রাখবেন, যারা ভাবেন ডিপ্লোমা দিয়ে চাকরী হবেনা দেখে নিবেন তাদের ডিপ্লোমার পর বিএসসি করেও চাকরী হবে না। পরে আবার চাকুরীর জন্য সেই আপনার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির উপরই নির্ভর করতে হবে।

 

প্রাইভেট জব

যাদের ডুয়েটে ভর্তির সামর্থ্য(মেধা/অর্থ) নেই তারা অবশ্যই যে কোন ভাবে একটা প্রাইভেট জব মেনেজ করে নিজের স্কিল বিল্ডআপ করুন। আর জোড়ালো ভাবে বলতেছি প্রাইভেট জব করেন যদি সম্ভব হয় পড়ালেখা চালিয়ে যান। জব এর পাশাপাশি ও সরকারী জবের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। যারা শুধু জবের জন্য স্টাডি করে তাদের চেয়ে যারা জব এবং স্টাডি দুটোই করে তারা সহজেই জব পেয়ে যায়। এর কারণ তারা বাস্তব জিনিস নিয়ে কাজ করে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ে আসা টার্ম গুলোর সাথে পরিচিত হয় যা জব পাওয়ার জন্য যথেষ্ট সাহায্য করে। সাথে সাথে জব আপনার আর্থিক চিন্তাও দূর করে যা আপনার স্টাডি কে চিন্তা মুক্ত রাখে।

 

সরকারী চাকুরী

সরকারী চাকুরী ও ডুয়েট একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। যদি আপনার সিজিপিএ ৩.২৫ এর উপরে থাকে এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকে তারা ডুয়েট এবং চাকরীর প্রস্তুতির জন্য সময় দেন আশা করি সফলতা পাবেন। তবে চাকুরীর প্রস্তুতির জন্য ডুয়েট কোচিং বাধ্যতামূলক নয়। আপনার বেসিক কন্সেপ্ট ক্লিয়ার থাকলে কোন কোচিং না করেও আপনি জব পাবেন শুধু রুটিন করে স্টাডি চালিয়ে যান আর অযথা বেশি পড়ার দরকার নেই। টেকনিক খাটিয়ে শুধু প্রয়োজনীয় অংশগুলো পড়ুন। আর স্টাডির মঝে কোন গ্যাপ না আনার চেষ্টা করুন। সিলেবাস কন্টিনিউ করুন। মনে জোর নিয়ে স্টাডি করুন জব আপনার হবেই। ইনশাআল্লাহ। যাদের সরকারী জব করার বয়স ও স্বপ্ন দুটিই আছে তারা দয়া করে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। জব হওয়ার পর নষ্ট করার মত অনেক সময় পাবেন। তাই সময়ের মূল্য বুঝে পড়ালেখা চালিয়ে যান, আশা করি সফলতা পাবেন।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার

 

ডুয়েট কোচিং

যাদের সিজিপিএ এবং বেসিক ভালো সাথে আর্থিক সামর্থ্যও আছে তারা আবশ্যই ডুয়েটের জন্য কোচিং করুন। প্রানপণ চেষ্টা করুন মনোযোগ দিয়ে পড়ুন ইনশাআল্লাহ প্রথমবার না হইলেও দ্বিতীয়বার। এ ঠিকই হবে আর যদি নাও হয় দেখবেন সরকারী চাকুরীর প্রিপারেশন আপনার প্রায় কম্পলিট। তাই হতাশ না হয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যান আশা করি খালি হাতে ফিরবেন না।

ধন্যবাদান্তে,
মোঃ রাকিব হাসান।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বিটাক, শিল্প মন্ত্রণালয়।

 

২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা হয় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসবুক গ্রুপ। আমরা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছি। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।