লকডাউনে ঘরে বসে অনলাইন থেকে আয় করুন লক্ষ লক্ষ টাকা

লকডাউনে ফ্রীল্যান্সিং! আমাদের অনেকেই আছি পড়াশুনা করছি এবং অনেকেই আবার চাকুরিজীবি। কিন্তু এই বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯ এর ফলে লকডাউনে আমরা এখন সবাই বেকার বসে আছি। ইন্টারনেট সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই বুঝি এবং অনলাইন থেকে আয়ের কথাও শুনেছি। শুধুমাত্র অনলাইনে কাজ করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে অনেকে। আপনি জানলে অবাক হবেন ফ্রিল্যান্সিং এরদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সারা বিশ্বে দ্বিতীয়।

তো চলুন কথা না বাড়িয়ে ঘরে বসে কিভাবে আয় করা তা জেনে নেওয়া যাক। শুরুতেই বলে নিই, এখানে আমরা আলোচনা করব অনলাইনে অর্থ উপার্জনের নানান কৌশল ও তার প্রয়োগ সম্পর্কে। কিন্তু আমাদের পরামর্শ থাকবে, আপনি যে কাজটা ভালো পারেন সেটি খুব ভালো করে শিখে নিন। যাদের কাজে দক্ষতা থাকে তারা সহজে কাজ পান এবং দ্রুত আয় করতে পারেন। আপনি দক্ষ না হয়ে কাজে নামলে পদে পদে বিপদে পড়বেন। ঘাবড়ে যাবেন, ধৈর্য হারাবেন, ব্যর্থ হবেন।

ডাটা এন্ট্রি
অনলাইনে সহজ কাজ গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেটা এন্ট্রি। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ডাটা এন্ট্রি খুবই জনপ্রিয় একটি কাজ। যদি আপনার ভাল টাইপিং স্পীড থাকে তবে আপনি একজন দক্ষ কর্মী হয়ে উঠতে পারবেন। অনলাইন ডাটা এন্ট্রি কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যাদের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও দ্রুতগতির টাইপিং দক্ষতা আছে তারা এ কাজ দ্রুত পাবেন এবং ডাটা এন্ট্রি করে মাসে ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয় করুন

ইউটিউব
ইউটিউব এবং ইউটিউবারের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আপনি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে আয় করতে পারেন। মূলত আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে সফলতা পেতে পারেন। হতে পারে গান, নাচ, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট, গল্প বলা কিংবা ফানি ভিডিও, এক কথায় যা মানুষের কাজ আসবে। এ জন্য আপনাকে অবশ্যই সৃজনশীল আর ভালো উপস্থাপনা জানতে হবে। চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ও ভিডিও ভিউ বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। বাংলাদেশী ইউটিউবারেরা মাসে ১০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ টাকা আয় করছে শুধু ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে।

গ্রাফিকস ডিজাইন
ঘরে বসে অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে গ্রাফিকস ডিজাইন জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। মার্কেটেপ্লেসগুলোতে দক্ষ ডিজাইনারদের চাহিদা সবসময় অনেক বেশী থাকে। গ্রাফিক ডিজাইন মোটামুটি সহজ এবং প্র্যাকটিস করলে ভালো দক্ষতা অর্জন করা যায়। টিশার্ট, ব্যানার, ভিজিটিং কার্ড, UI ডিজাইন এবং অন্যান্য এডস ডিজাইনের কাজগুলো বেশি। গ্রাফিকস ডিজাইনারদের জন্য ফাইবার খুবই জনপ্রিয়। আপনি এখানে একাউন্ট করে আপনার কাজের অর্ডার পেতে পারেন। এক একটি ডিজাইনের জন্য বায়ারের ৫ ডলার থেকে ২০০ ডলার দিয়ে থাকে।

ওয়েব ডিজাইনার
ওয়েব ডিজাইনার হওয়া অনেকের কাছেই স্বপ্নের মত। কারণ প্রতিটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করে আপনি ১০০ ডলার থেকে শুরু করে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন। আপনি জানলে অবাক হবেন প্রতি মাসে প্রায় ১৬ মিলিয়ন এর বেশী ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে। যার দরুন ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইনারদের চাহিদা ব্যপক। আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন ভালো করে শিখেন তাহলে মাসে অন্তত এক লাখ টাকা কামাতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে শিখতে হবে এইচটিএমএল (HTML), সিএসএস (CSS), জাভাস্ক্রিপ্ট (JavaScript), বুটস্ট্রাপ (Bootstrap), পিএসডি টু এইচটিএমএল কনভার্সন (PSD TO HTML)।

আশা করি আমাদের এই পোস্টটি আপনাদের উপকারে আসবে।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনের ফ্রি কোর্স করতে চান তবে এই লিংকে ক্লিক করুন এখুনি…