বিশ্ব বাজারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন ও চাহিদা

engineering helpline bd

অবকাঠামোগত উন্নয়নে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাহিদা উত্তোরোত্তর বেড়ে চলছে। আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে একজন পুরোকৌশল প্রকৌশলী বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা অপরসীম। আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই সেক্টর থেকে প্রতি বছর অগনতিক ছাত্রছাত্রী ডিপ্লোমা ও ব্যাচেলর ডিগ্রী নিয়েও নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে না। অন্যদিকে ইউরোপ আমেরিকায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কন্সট্রাকশন তথা রিয়েল এস্টেট বিশাল চাকুরিক্ষেত্র রয়েছে। এবং তারা গোটা দুনিয়া থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করছে। অথচ বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের যথাযত ডিগ্রী ও অভিজ্ঞতা থাকার পরেও এই চাকুরিক্ষেত্র সম্পর্কে অবগত না। যার ফলে তারা নিজেদের সোনালী ভবিষত গড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আপনি জানলে অবাক হবেন যে বিশ্বের প্রথম একশ তলা ভবন “সিয়ার্স টাওয়ার” এর স্থপতি একজন বাঙ্গালী। আমেরিকার শিকাগোতে অবস্থিত এই ভবনের নকশাকারের নাম ফজলুর রহমান খান।  ভৌগলিক কারণে বিশ্বের একেক দেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা একেক রকম। যার কারনে তাদের বেতনে বেশ তারতম্য দেখা যায়। শুধু দেশেভেদে নয়, এ পার্থক্য আমেরিকার কিংবা অন্যান্য দেশের বিভিন্ন স্টেট গুলোতেও দেখা যায়।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক দেশভেদে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন কেমন

  • ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকাঃ আমেরিকায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন বছরে ৮০ হাজার ডলার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। প্রতি মাসের হিসেবে সাড়ে ৬ হাজার ডলার থেকে ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা।
  • কানাডাঃ একজন কানাডিয়ান সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রতি বছর ৭৫ হাজার ডলার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার বেতন পেয়ে থাকে।
  • জার্মানীঃ আমেরিকা ও কানাডার তুলনায় জার্মান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন কিছুটা কম। তারা প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার ডলার থেকে ৭ হাজার ডলার বেতন পায়। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
  • দুবাইঃ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ের একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বাৎসরিক বেতন প্রায় ৮৫ হাজার দিরহাম থেকে দেড় লাখ দিরহাম। যা বাংলাদেশী টাকায় মাসিক বেতন দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
  • নিউজল্যান্ডঃ  সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বর্গভুমি নিউজিল্যান্ডে প্রতিবছর প্রচুর চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এখানকার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারেরা প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার ডলার বেতন পেয়ে থাকে। এবং একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রকৌশলী প্রায় ১০ হাজার ডলার মাসিক বেতন পায়।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার

ছাত্রজীবন শেষে একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো অভিজ্ঞতা। শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার বলেই একজনের সাথে আরেকজন ইঞ্জিনিয়ারের মাঝে বিশাল পার্থক্য দেখা দেয়। প্রমশন, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রাধান্য পায় তা হলো অভিজ্ঞতা। তাই শুধু দেশ ভেদে যে বেতনের তারতম্য দেখা যায় তা নয়। এখানে অভিজ্ঞতার অনেক সময় মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন কেমন

  • ১ বছরের কমঃ ইউরোপ আমেরিকান রাষ্ট্রে এক বছরের কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মাসে গড়ে অন্তত ২-৩ হাজার ডলার পেয়ে থাকে।
  • ২ থেকে ৪ বছরঃ ২ থেকে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক বেতন প্রায় ৩-৪ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পায়।
  • ৫ থেকে ৯ বছরঃ একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের অভিজ্ঞতার ঝুলি যখন ৫ বছর অতিক্রম করে তখন চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। আর তার সাথে বেতনও। প্রতি মাসে কেউ কেউ প্রায় ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ বাংলাদেশি টাকা বেতন পেয়ে থাকে।
  • ১০ থেকে ২০ বছরঃ একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের তার চাকুরিক্ষেত্রে ১০ বছরের বেশির অভিজ্ঞতা অর্জন করা বিশাল বেপার। আর তাদের জন্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে রয়েছে নানান রকমের সুবিধা। তাদের মাসিক বেতন বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা।
  • ২০ বছরের বেশিঃ পুরোকৌশল বিভাগ বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে একজন ইঞ্জিনিয়ারের অভিজ্ঞতা ২০ বছরের বেশি হলে তারা কমপক্ষে ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ বেতন পায়।

বিশ্বের প্রতিটা দেশ তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। যার ফলে বাজারে দিনে দিনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা ব্যপক হাড়ে বাড়ছে। কিন্তু যারা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ নিজেদের ক্যারিয়ার গড়বেন বলে মনঃস্থির করেছেন। তাদের প্রত্যেকের উচিত পড়াশুনার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ানো। নিজের সিভি বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় পূর্ণ করা।

 সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভাইভা প্রশ্ন ও উত্তর

 

 

দেশ গড়ার হাতিয়ার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপে স্বাগতম। ২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তৈরি করা এই গ্রুপ দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান করে আসছে। চাকুরি পড়াশুনা থেকে শুরু করে যারা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাদের সু-পরামর্শ প্রদান করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্বাগতম জানাই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে, এইখানে ক্লিক করে এখনি জয়েন করে নিন। আশা করি একে অপরের সাথে সৌজন্যমুলক আচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।