ব্যাকবেঞ্চার থেকে গুগলের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার গল্প

0
4669

কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে, কথাটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। আর একজন ব্যাকবেঞ্চার ইঞ্জিনিয়ার কিভাবে পরিশ্রম করে নিজেই নিজেকে সফল করে তুলতে পেরেছিলো সে গল্পই আজ আমরা জানব।

এক সময়কার ক্লাসে টেনেটুনে পাস করা ব্যাকবেঞ্চার আজ বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। নাম তাঁর জাহিদ সবুর। শুধু তাই নয় পড়াশোনায় তেমন ভালো ছিলেন না এবং SSC ও HSC তে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সই পাননি তিনি। পড়াশোনায় তেমন ভালো না হলেও স্কুলে থাকতে তিনি বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই সেরাদের তালিকায় থাকতেন। আর আজ তাঁর বেতন গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় পান দুই কোটি টাকার উপরে। গোটা দুনিয়ার জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের ফুলটাইম কর্মী আছেন লাখ খানেকের মতো। যার মধ্যে মাত্র আড়াইশ জনের মতো আছেন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। আর জাহিদ সবুরই প্রথম বাংলাদেশী যিনি গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার।

জাহিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। বাবা কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন বলে তাঁর জন্ম সৌদি আরবে। আট বছর বয়সে সপরিবারে দেশে ফিরে এসে ভর্তি হন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্বপ্ন ছিল তিনি ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে জাহিদ সবুর পড়াশোনা করেছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বা এআইইউবি। যার কারনে তাকে শুনতে হয়েছিলো অনেক কটূ কথা। তবে তিনি হতাশ হননি, তার স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। নতুন উদ্যোমে এগিয়ে গেছেন। স্বপ্নকে জয় করতে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে সিজিপিএ ফোর দিয়ে স্নাতক শেষ করেছেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি রেকর্ড ছিল।

আরো পড়ুনঃ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ক্যারিয়ার

জাহিদ সবুর ২০০৭ সালে গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। প্রথম কাজ শুরু করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। তার ছয় মাস পরে, ক্যালিফোর্নিয়ার গুগলের অফিসে বদলি হন। গত বছরের ২য় মে গুগলের জুরিখ অফিসে পরিচালক হিসাবে পদোন্নতি পান। আর তিনি হয়ে উঠেন গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার।

জাহিদ প্রমাণ করেন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু কষ্ট করলে অবশ্যই কেষ্ট মিলবে।